কিছু কিছু গান আছে উন্মাদের মত, বাঁধভাঙা ঢেউ এর মত সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তছনছ করে।
তারপর দেখি কখন আবার সব সাজিয়ে রেখেছে, ফেলে আসা প্রেমের স্মৃতির মত৷ সেখানে জারিজুরি খাটে না কোনও। শুধু নতজানু হওয়া ছাড়া।
জগজিৎ-এর 'কই ফরিয়াদ তেরে দিল মে' তেমনই একটা ঢেউ। দেখতে দেখতে ২০ বছর পার করিয়েও বারবার আছড়ে ফেলে তার অতল ঘূর্ণিপাকে৷ রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজও সেই উন্মুক্ত জলোচ্ছ্বাস টের পাই।
২০০১ সাল। রিলিজ করেছে অনুভব সিনহার 'তুম বিন'। কলেজে পড়ি তখন। গোটা সিনেমা'টি জুড়ে সে এক অদ্ভুত মাদকতা, নস্ট্যালজিয়া। নবাগত কুশিলব'দের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম। কিন্তু জগজিৎ'কে ভুলি কী করে?
প্রায় এক ডজন গান ছিল 'তুম বিন'-এ। দুই তরুণ সংগীত পরিচালক নিখিল-বিনয়ের সুরে প্রায় সব গানই হিট৷ ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু ফয়েজ আনোয়ারের কলম আর জগজিৎ সিং-র কণ্ঠের জাদুতে মথিত - 'কই ফরিয়াদ' যে অমরত্ব পেয়েছে, তা তুলনাহীন।
জগজিৎ স্বীকার করেছিলেন বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ গজল এটি৷ লোকে ভুলে গেছে তার সুরকার বা গীতিকারের নাম। অতন্দ্র নক্ষত্ররাজির মধ্যে শুধু জ্বলজ্বল করছেন জগজিৎ ও তাঁর স্বপ্নের 'কই ফরিয়াদ'।
দেখতে দেখতে দু দশক পার। এই দু'দশকে কম করে দুশোবার শুনেছি এই গান। আলোড়িত হয়েছি, তছনছ হয়েছি ভেতরে ভেতরে যখন জগজিৎ তাঁর ব্যারিটোনের স্পর্শে জাগিয়েছেন -
"জাগতে জাগতে এক উম্র কাটি হো জ্যয়সে
জান বাকি হ্যায় মগর সাঁস রুকি হো জ্যয়সে"
কী করে ভুলি সে গানের 'সঞ্চারী', জগজিৎ ঘটিয়ে ফেলেছেন যেখানে অনাবিল জাদু বাস্তবতার সুতীব্র বিস্ফোরণ? তিনি গাইছেন, বলা ভালো যেন ধ্যানে বসেছেন -
"এক লমহে মে সিমট আয়া হ্যায় সদিয়ো কা সফর
জিন্দেগী তেজ বহুত তেজ চলি হো জ্যয়সে..."
এখানেই এই গানের সার্থকতা, অমরত্বের স্পর্শ।
কথায়, সুরে, গায়কী'তে এমন অতুলনীয় মেলবন্ধন সত্যি বিরল। দু দশক পেরিয়েও যার ভাঙাগড়ার খেলা আজও অক্ষুণ্ণ। সাড়ে ন' মিনিটের বিস্ময়।
আমার রাতজাগা, ক্লান্ত চোখ অবাক হয়ে দেখছে স্বয়ং জগজিৎ উঠে এসেছেন শুশ্রুষার ভাণ্ড হাতে৷ তছনছ হতে হতে আবারও গুছিয়ে নিচ্ছি জীবন। কারণ তিনিই শিখিয়ে গেছেন -
"জান বাকি হ্যায় মগর সাঁস রুকি হো জ্যয়সে..."
No comments:
Post a Comment