স্যাক্সোফোন। মাদকতার আরেক নাম। অঞ্জন দত্ত প্রথম চিনিয়েছিলেন। 'স্যামসনে'র হাত ধরে। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে চিনতে শেখা মনোহারী সিং, স্ট্যানলি স্যামুয়েল, লুই ব্যাঙ্ক, কাদরি গোপালনাথকে। একটু একটু করে জানা চার্লি পার্কার, জন কোলট্রেন ও ব্র্যাজ গঞ্জালেস কিম্বা ক্যানি জি। যত শুনেছি, মুগ্ধ হয়েছি তারও বেশি৷
বলিউডের গানে 'স্যাক্সে'র ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। অথচ বরাবর স্যাক্সোফোন'কে ঠেলে দেওয়া হয়েছে ব্যাক বেঞ্চে৷ আজকাল ক'জনই বা শোনেন! ১৮৪০ সালে বেলজিয়ান কম্পোজর অ্যাডল্ফ স্যাক্সের হাত ধরে যার যাত্রা শুরু, ইতিহাস-ই বা তাকে কতটুকু মর্যাদা দিয়েছে! আমরা তাকে ঠেলে দিয়েছি শুঁড়িখানা পাব বা ঔপনিবেশিক রেস্তোরাঁর অন্ধকারে। অথচ এত তাড়াতাড়ি বোধহয় হারিয়ে যাওয়ার কথা ছিল না স্যাক্সোফোনের৷
প্রয়াত পরিচালক অনন্ত বালানি এবং সুধীর মিশ্রার 'চামেলি' (২০০৪) শুধুই এক দেহপসারিনী ও একলা বিষাদগ্রস্ত মানুষের বন্ধুত্ব, প্রেম, সান্নিধ্য, বিচ্ছেদের গল্প নয়। বঞ্চনার সুদীর্ঘ নৈঃশব্দ্য ভেঙে বেজে ওঠা এক স্যাক্সোফোনের গল্প বটে। গোটা সিনেমা জুড়ে তার আধিপত্য। প্রতিটি গানের শরীরেই লেগে তার জাদু স্পর্শ। শুনেছি, কাদরি গোপালনাথের 'স্যাক্স' শুনে স্তব্ধ হয়েছিলেন 'চামেলি'র সংগীত পরিচালক সন্দেশ শাণ্ডিল্য। গীতিকার ইরশাদ কামিল বলেন, 'এই গান আর দৃশ্যায়ন ফুটিয়ে তুলতে স্যাক্স ছাড়া অন্য উপায় নেই। আর তাকে অন্য উচ্চতায় স্থাপন করেছিলেন কাদরি।' ফিরিয়ে এনেছিলেন হারিয়ে যাওয়া স্যাক্স-ঐতিহ্য।
'ভিগি হুই' - খুব সাধারণ হয়েও অসাধারণ একটি কাজ। সুনিধি চৌহান বা জাভেদ আলীর কথা না হয় ছেড়েই দিলাম। তাঁরা বলা-কওয়ার ঊর্ধ্বে। কিন্তু ওই স্যাক্সোফোন? ওই বৃষ্টি, মেঘের ডাক, ঠাণ্ডা লোনা বাতাস ছুঁয়ে আসা 'ব্যারিটনিক সাউন্ড'? আজও কী অদ্ভুত জাদু করে মাথার মধ্যে। কখনো গভীর অতল খাদ, কখনো বা মেঘেদের ঘরবাড়ি নিঙড়ানো সেই শব্দ, 'সেমি সাইকডায়ালিক ট্রান্সে' বুঁদ হয়ে থাকা।
আমার কাছে স্যাক্সোফোন আজও 'চামেলি'র তীব্র, শ্বাসরোধী মিষ্টি নির্যাস। সেই অদ্ভুত নির্যাস, আমি যার পরতে পরতে বৃষ্টি, সস্তা মদের গন্ধ, সিগারেট আর আকণ্ঠ ভিজতে থাকা লালবাতির নিষিদ্ধাঞ্চলে কোনও এক অষ্টাদশীর উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনায় ভরা শিশুসুলভ নাচ দেখতে পাই...আজও...
No comments:
Post a Comment