"কাফস উদাস হ্যায় ইয়ারো সবা সে কুছ ত কহো
কহী ত ব্যহর-এ-খুদা আজ জিকর-এ-ইয়ার চলে..."
[এই বিষাদ-পিঞ্জর ছুঁয়ে, হে বন্ধু!
ভোরের হাওয়াকে বলো, ঈশ্বরের দোহাই
আজ আমার প্রেয়সীর খবর শোনাও...]
"গুলো মে রঙ ভরে বদ-ই-নৌ-বাহার চলে"
না জানি কতবার শুনেছি। ঘুমের মধ্যে কিম্বা জাগরণে। যেন স্বর্গভ্রষ্ট কোনো সুর। যেন অতীন্দ্রিয় কোনো টান। জড়িয়ে রয়েছে আষ্টেপৃষ্টে আমায়।
আমি দেখতে পাচ্ছি, একটা ঘনান্ধকার জেলখানা। রাওয়ালপিন্ডির কুখ্যাত মন্টগোমারি প্রিজন। আলো পর্যন্ত ঢোকে না সেখানে। ঢুকলেও, তা না ঢোকার মতন। সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন 'সেল'-এর একপাশে বসে 'নজম' লিখছেন এক রাগী যুবক।
তাঁর উস্কোখুস্কো চুল, ঠোঁটে ধরা সিগারেট, চারপাশে বাতিল কাগজের টুকরো জানান দিচ্ছে তাঁর আসল পরিচয়। তিনি ফৈজ আহমেদ ফৈজ। সময়টা ১৯৫৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। তিনিই লিখেছেন এই কবিতা।
এর ঠিক দশ বছর পর, ১৯৬৪ সাল। লাহোরে মুক্তি পায় "ফিরাঙ্গি"। সুরকার রশীদ আত্রে সুর দেন ফৈজের এই রচনায়। কণ্ঠজাদুতে তাতে প্রাণসঞ্চার করলেন আরেক কিংবদন্তি শিল্পী মেহেদি হাসান। সিনেমা হিট, গান কালজয়ী। বাকিটা ইতিহাস।
গুলো মে রঙ, ফৈজ আহমেদ আর মেহেদী হাসান। যেন এক অনন্তের কারুকাজ। অনন্যসাধারণ এক যুগলবন্দী। যেন একে ওপরের দোসর। পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজের 'হায়দরে'ও ঠাঁই পেয়েছিল এই সুর। আজও সেই সুরের আগুন জ্বলছে।
এরপর বহুবার, বহু জায়গায় বিভিন্ন কাজের সূত্রে শুনেছি এই গান। শুনেছি বিভিন্ন ঘটনাচক্রে। তবে তা একচেটিয়া পুরুষ কণ্ঠেই। নারীকণ্ঠে এই প্রথম। অথচ ১৯৮১ সালে রুণা লায়লা গাইলেন এই গান। নিজস্ব আঙ্গিকে, নিজস্ব ঘরানায়, কণ্ঠমাধুর্যে। তিনি এলেন, দেখলেন ও জয় করলেন...
আজ এই গান শুনতে শুনতে বারবার মনে পড়ে যাচ্ছিল সেই সব ইতিহাস। সুরেলা ইতিহাস। তার কিছুটা আলোয়, কিছুটা অন্ধকারে ঢাকা। তবু সেই আলো-আঁধারিয়া থেকে ভেসে ওঠে সুর। ঝিঁঝিট রাগের অনালোকিত ছায়াপথ ধরে। বাংলাদেশ থেকে সুরের আলো ছড়িয়ে পড়ছে পাকিস্তানে, তামাম দুনিয়ায়। আমি শুনতে পাচ্ছি রুণা গাইছেন -
" বড়া হ্যায় দর্দ কা রিস্তা ইয়ে দিল গরীব হী সহি
তুমহারে নাম পে আয়েঙ্গে গম-ই-গুসার চলে।"