জীবন এক অলীক 'চতুষ্কোণ'। জরা, ব্যাধি, মৃত্যু আর মুক্তির জাফরিকাটা আলোয় রাঙানো।
আজকাল দিন শুরু এদের নিয়েই। ঘুম ভেঙে চোখ মেলে মনে হয়, কী আশ্চর্য, বেঁচে আছি তবে। আরও একটা দিন, আরও কিছু মুহূর্ত যাপন। 'আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি বাঁচার আনন্দে'। কারা যেন কড়া নাড়ে। কেউ কী এসেছে তবে কারফিউ পেরিয়ে?
তারপর যত সময় গড়ায়, বুঝতে পারি 'জরা' এসে নিঃশব্দে বসেছে পাশে৷ শরীরে নয়, মস্তিষ্কে। খবর চলতে থাকে বোকাবাক্সে। সংক্রমণ আর মৃত্যুর হার নিয়ে লোলচর্ম বিশেষজ্ঞ। ভেসে আসে মুঠোফোন - বার্তা। ঘষঘষ শব্দে চলতে থাকে কলম। পেশাদারি স্বভাব দোষে। লকডাউনের মধ্যে শিশুর দল খেলা করে রাস্তায়।
সাত-পাঁচ ভাবতেই সশব্দে ব্রেক। গড়িয়ে পড়ে দেহ। পাশে বসা প্রৌঢ়া, হাতে জলের বোতল, ঠোঁটে ঠোঁট প্রাণ সঞ্চারের চেষ্টায়৷ লুকিং গ্লাসে মুখ টিঁপে হাসে 'ব্যাধি'। এ শহরে আজকাল নিঃশ্বাস নেয় না কেউ। কবন্ধ হয়ে ঘুরে বেড়ায় ফাঁকা সিলিন্ডারে। অজান্তে শিখে ফেলি, মুখোশের রাজনীতি, আর রাজনীতির মুখোশের ফারাক।
শ্বেতশুভ্র 'মৃত্যু' আসে ব্যস্ত পায়ে৷ জ্বলে ওঠে চিতা, লেলিহান। ছাই ভাসে বিছানায়। পাক খায় কালো ধোঁয়া। তিনদিন মানুষটা দরজা খোলেনি। কেউ কী নিয়েছে খবর? ককিয়ে ওঠে সাইরেন। মুর্দাফরাশ, জ্বালাবার আগে ব্যবচ্ছেদ করে দেখে নিও, আদৌ কেউ ভালো বেসেছিল কি না।
জানি অসম্ভব, তবু জেনো বৃষ্টি নামবে শহরে৷ বাঁশি, ঢোলক, হারমনিয়াম আর করতালি দাওয়ায় বসবে মুখোমুখি। হবে গান, বেসুরো বেতালায়। অন্ধকারের ঘন্টাধ্বনি বাজবে দূরে৷ চারটে জীবন, ভ্রুক্ষেপহীন, আলোর সওদাগরি সেরে বলবে, যাও এবার 'মুক্তি' খুঁজে নাও মূর্চ্ছনায়।
জীবন এক অলীক 'চতুষ্কোণ'। ক্ষমাসুন্দর আলোয় রাঙানো। আমি তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসি। অদৃশ্য শূন্য থেকে সুর বেরিয়ে শূন্যে হারিয়ে যায়। তথাগত তার নাম রেখেছিলেন 'বোধি'। আমি তাকে খাম্বাজ বলে ডাকি।